১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ♦ ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ♦ ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী ♦ শনিবার ♦
কুমিল্লার দেবিদ্বারে জনমনে প্রশ্ন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি এখন কার Reviewed by Momizat on . দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার পৌর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মনিরুল হক ভূঞাকে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার পৌর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মনিরুল হক ভূঞাকে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ Rating: 0
You Are Here: Home » সারাদেশ » চট্টগ্রাম » কুমিল্লার দেবিদ্বারে জনমনে প্রশ্ন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি এখন কার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে জনমনে প্রশ্ন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি এখন কার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার পৌর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মনিরুল হক ভূঞাকে নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

জানা যায়, গত সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দেবিদ্বার পৌর এলাকাধীন ফাতেহাবাদ কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মিলাদ মাহফিলে দেবিদ্বারের বর্তমান সংসদ সদস্য জনাব রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এর হাতে ফুল দিয়ে তৈরি নৌকা তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

তখন থেকেই তার ‍ওই ফুল দানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে দেবিদ্বার প্রেসক্লাবে তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে করে আওয়ামী লীগে যোগদানের কথা অস্বীকার করেন।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমি মোঃ মনিরুল হক ভূঞা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেবিদ্বার পৌর শাখার সভাপতি। সম্প্রতি আমাকে নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ফেসবুকে নানা অপপ্রাচার চালানের প্রেক্ষিতে সকলের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, আমি কখনোই বিএনপি ছেড়ে অন্য কোন দলে যোগদান করিনি এবং সেই ইচ্ছাও আমার নেই। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, গত ২৯ শে জানুয়ারি দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়’র মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে স্কুল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব রাজী মোহাম্মদ ফখরুল সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন, এবং আমরা ওনাকে মাননীয় অতিথি হিসেবে মাল্যদান করি। উক্ত অনুষ্ঠানে কেউ কেউ এমপি মহোদয়কে ফুলের তোড়া  উপহার দিলে সৌজন্যবশত আমি উনার পাশে থাকি, এতে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আদৌ ছিল না এবং অদূর ভবিষ্যতেও নাই। আমি পৌরসভার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি হিসেবে আছি এবং জাতীয়তাবাদী দলের পেছনে অদূর ভবিষ্যত পর্যন্ত আমি কর্মকান্ড চালিয়ে যাব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উপর আত্নবিশ্বাস আছে।’

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ওই দিন (২৯ জানুয়ারি) মিলাদ মাহফিলে পৌর বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এমপি সাহেব’র হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন, বিএনপির পৌর সভাপতির সামনে এতোগুলা নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিল এটা কি ওনার জানা ছিল না? আর জানা থাকলে ওনি কোন পদক্ষেপ নিল না কেন? আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমলে একজন পৌর বিএনপি’র সভাপতি কিভাবে পৌর এলাকাধীন স্কুলের সভাপতি থাকেন?

তিনি আরও বলেন, ওনি যদি বিএনপিতেই থাকে তাহলে বিএনপির লোকজনের এতো জ্বলে কেন। কাল যখন ফেসবুকে উনার ছবিটা ভাইরাল হলো তখন উনাকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উনাকে গালিগালাজ করছে কেন?

সাংবাদিক সম্মেলনে ওনি (মনিরুল হক ভূঞা) বলেছেন বাকি লোকদের সাথে সৌজন্যবশত দাড়িয়েছেন, কিন্তু ছবিতে দেখা যায় নৌকা প্রতিক হাতে দেয়ার সময় ওনার পাশে এমপি সাহেব ছাড়া অন্য কোন লোক নেই, বরং নৌকা  প্রতিক দেয়ার সময় ওনাকে হাসিমুখে এমপি সাহেবের পাশে থাকতে দেখা যায়। এমপি সাহেব কি ওনাকে জোর করে নৌকা দিয়েছিলেন? হাতে নৌকা মুখে হাসি আর সাংবাদিক সম্মেলনে উনার মন খারাপ লাগছে কেন, মনে হচ্ছে ওনাকে কেউ ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলন করাচ্ছে, এটা কি জোর করে “মোবাইল পার্টি” দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করানো হইছে? নৌকা হতে ওনার হাসি, সাংবাদিক সম্মেলনে মন খারাপ রহস্যজনক!

ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা আরও বলেন, মিলাদ অনুষ্ঠানের বক্তব্যে উনি বলেছেন, যে উনি এমপি সাহেবকে অতীতে সমর্থন করেছেন আবার ভবিষ্যতেও করবেন, তাহলে এমপি সাহেব আওয়ামী লীগের মনোয়ন নিয়ে নির্বাচন করলে উনি কার হয়ে কাজ করবেন?

জনমনে প্রশ্ন একটাই উনি (মনিরুল হক ভূঞা) এখন কার?

Leave a Comment

Scroll to top