১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ♦ ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ♦ ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী ♦ শনিবার ♦
মহিউদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু ও নগর পিতার ভ্রমন Reviewed by Momizat on .   কামাল পারভেজ: জন্মিলে, মরিতে হইবে। ইহাই সত্য। বেচেঁ থাকার মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ধর্ম কর্মের মধ্য দিয়েই তার জীবনের অতীত, ভবিষ্যৎ সব কিছুর আলোচনা ও পর্যাল   কামাল পারভেজ: জন্মিলে, মরিতে হইবে। ইহাই সত্য। বেচেঁ থাকার মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ধর্ম কর্মের মধ্য দিয়েই তার জীবনের অতীত, ভবিষ্যৎ সব কিছুর আলোচনা ও পর্যাল Rating: 0
You Are Here: Home » সারাদেশ » চট্টগ্রাম » মহিউদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু ও নগর পিতার ভ্রমন

মহিউদ্দীন চৌধুরীর মৃত্যু ও নগর পিতার ভ্রমন

 

কামাল পারভেজ:

জন্মিলে, মরিতে হইবে। ইহাই সত্য। বেচেঁ থাকার মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ধর্ম কর্মের মধ্য দিয়েই তার জীবনের অতীত, ভবিষ্যৎ সব কিছুর আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়ে উঠে সবার মধ্যে। কেউ স্মরনীয় হয়ে থাকবে আবার কেউ বরণীয় হয়ে মুছে যাবে। খারাপের মধ্যেও ভালো, ভালোর মধ্যে দিয়ে ইতিহাস তৈরী করে, সাধারণের হৃদয়ে একটু জায়গা করে নেয়। অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে যুগ যুগ ধরে। এও আমরা সকলেই জানি পৃথিবীতে বেচেঁ থাকার মধ্যেও একে অপরের জাত শত্রুও হয়ে থাকে কিন্তু মৃত্যুর পর সব ভূলে গিয়ে মৃত ব্যক্তির বহন করা খাট কাধেঁ তুলে নেওয়া। ঠিক তেমনি এক স্মরণীয় ঘটনা ঘটালেন এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী। তার মৃত্যুতে শোকের মাতম গড়ে উঠল পুরো চট্টগ্রামে। স্মরণীয় এক জানাযায় শামীল হল দলমত নির্বিশেষে। প্রমাণ করলেন দলমতের উর্ধে থেকেই চট্টলাবাসীর জন্য কাজ করে গেছেন। সিংগাপুর থেকে সুস্থতাবোধ নিয়ে ফিরে এসেই ১৫ ডিসেম্বর আকস্মিক ভাবে না ফেরার দেশে চলে যাবেন তা কারো কাছে কাম্য ছিল না। তবে মা-মাটির ও চট্টলাবাসীর ভালোবাসাটাই তার মৃত্যু নিজ শহরে একই সুতোতে গেথে রেখে ছিলেন তা চট্টলাবাসী আজ উপলব্ধি করতে পারছেন।

রাজনৈতিক ভাবে কর্মময় জীবনে এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লড়াকু সৈনিক ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও তিনবার নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। নগর পিতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রামের স্বার্থে কোন সরকারের সাথে আপোষ করেন নি। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যে সরকারই হড়ি খেলা খেলতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে দাঁত ভাঙা জবাব দিয়েছেন। তার জীবনে রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হল চট্টগ্রাম বন্দর। একেক সময় একেক আলোচনায় ঝড় তুলেছেন বন্দর আন্দোলন নিয়ে। তবুও দালালদের কাছে নতজানু হয়নী। বাঘের গর্জনের চেয়েও তার হুংকারে সারা দেশ জেগে উঠতো। তার রাজনীতিতে কৌশল অবলম্বন করাটা ছিল একক বুদ্ধিমত্তার কাজ। মুখে তিতা ভাষা ব্যবহার করলেও হৃদয়ের কম্পন থেকে প্রতিটি মানুষকে জয় করে নিতে পারতেন। গত সাত বছরে নগর পিতা না হয়ে তারপরও চট্টলাবাসীর অভিভাবক হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনেক চেষ্টা করেছিলেন তাকে ঢাকামূখী করতে, তাও ব্যর্থ হয়েছিলেন। চট্টগ্রাম ছেড়ে কোথাও যেতে রাজী হননি। এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরী যে শুধু আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক নগরপিতা ছিলেন, তা চট্টলাবাসী মেনে নিতে পারেন না। পুরো চট্টগ্রামের অবিসংবাদীত নেতা বলেই তাকে হৃদয়ের মাঝে গেথে রেখেছে। পুরো চট্টগ্রাম অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। তার মৃত্যুর শোকের ছায়া না কাটতেই আরেক হৃদয় বিদারক দৃশ্য ঘটে গেল তার কুলখানীতে। ১৮ ডিসেম্বর ছিল কুলখানী। এই উপলক্ষে ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানী খাওয়ার আয়োজন করলো। তার মধ্যে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে পদদলীত হয়ে ১০ জন মারা গেল। তখন চট্টগ্রাম আরেক শোকের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের সকল নেতাদের দেখা গেলেও দেখা যায়নি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাসিরকে। হতবাক পুরো চট্টগ্রাম বাসি। সবাই হাসপাতালে গেলেও মেয়র আ জ ম নাসির তার পরিবার নিয়ে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে বিমানে উড়লেন। তিনি চাইলে ফ্লাইট বাতিল করে ছুটে আসতে পারতেন। যেখানে সবার আগে মেয়রের উপস্থিতি ছিল কাম্য। সেখানে নগরবাসি হতাশা ছাড়া কিছুই পেল না। মেয়র আ জ ম নাসির কখনোই এই কর্তব্য ও দ্বায়িত্ব বোধ কখনই এড়িয়ে যেতে পারেন না। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল মেয়রের বিদেশ ভ্র্মণ আর ভারপ্রাপ্ত মেয়র দ্বায়িত্ব নিলেন অধ্যাপক নেচার আহম্মদ মন্জু। এই সংবাদটি ফলাও করে তেমন কোন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ পায়নি। মনে হয় অতি গোপণীয়তা রক্ষা করা হল উভয়ের মধ্যে। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরির কুলখানীর দিন মেজবানীতে ঘটে যাওয়া তরতাজা ১০ জন প্রাণহানী ঘটনায় ১০ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে না পারলেও কি হবে ৫ জানুয়ারী এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরির শোকসভায় উপস্থিত হতে পেরেছেন তারজন্য বাহবার কিছু নেই। তার থাইল্যান্ডে ভ্রমন এদিকে চট্টলাবাসীর আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছিল। বিষয়টি নিয়ে চায়ের দোকানের টেবিলেও চায়ের কাপ নেড়ে উঠছিল। যাই হোক চট্টলাবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরির আকস্মিক মৃত্যুতে নিরব নিস্তদ্ধতায় এখন চট্টগ্রাম। তার সানিধ্য সহযোদ্ধা হিসেবে কে হাল ধরবেন এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে তরুণ প্রজন্মে উঠে আসা পিতার কর্মময় জীবন রচনাবলী করা পিতার রাজনৈতিক আদর্শ আর হুংকারের প্রতিচ্ছবি হতে কি পারবেন পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। চট্টলাবাসীও আরেক অভিভাবক দেখার অপেক্ষাতে রইলো। দেখা যাক সামনের দিনগুলোর হাল কে ধরছেন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট।

Leave a Comment

Scroll to top