১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ♦ ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ♦ ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী ♦ শনিবার ♦
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইহুদি-মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের জোট Reviewed by Momizat on . আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পূর্ব জেরুজালেম: ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান ক্রমবর্ধ আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পূর্ব জেরুজালেম: ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান ক্রমবর্ধ Rating: 0
You Are Here: Home » আন্তর্জাতিক » মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইহুদি-মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের জোট

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইহুদি-মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পূর্ব জেরুজালেম: ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান ক্রমবর্ধমান ক্রোধ ও সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে শান্তিু স্থাপনে মধ্যস্থতা করছেন ইসরাইলি ইহুদি পন্ডিত ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের একটি জোট।

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর থেকেই এই অঞ্চলজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গাজা থেকে হামাসের রকেট হামলা এবং ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

লন্ডন ও নিউইয়র্ক ভিত্তিক দ্য আর্ট নিউজপেপারকে গাজায় হামাসের সাবেক নেতা শেখ ইমাদ ফালোগি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেম ঘোষণাটি ইসরাইলি সংগঠন বয়কট করতে আরব আহ্বানকে উৎসাহিত করেছে। তবে, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি উভয়ের অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষা ও সাধারণ জনগণকে হত্যা বন্ধের জন্য মুসলিম ও ইহুদি ধর্মীয় পন্ডিতরা অহিংস কৌশল অবলম্বনের জন্য নিবেদিত।’

গোপন এই আন্তঃধর্মীয় প্রচেষ্টাকে ধর্মীয় নেতারা একটি ‘ধর্মীয় শান্তি নেটওয়ার্ক’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে এই ‘ধর্মীয় শান্তি নেটওয়ার্কের’ যাত্রা শুরু হয় এবং ইসরাইল, পশ্চিম তীর ও গাজায় এটি বিস্তার লাভ করে। এটি গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জেরুজালেম ও তার পবিত্র স্থানগুলোর শান্তি বজায় রাখা।

অহিংস ধর্মীয় নীতি সম্বলিত ‘আলেকজান্দ্রিয়া ঘোষণা’য় সাক্ষর করার জন্য ২০০২ সালে সিনিয়র মিশরীয় মুফতি মোহাম্মদ সায়েদ তানতায়ি বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং ক্যানটারবারি আর্চবিশে যোগদান করেন।

বর্তমানে এই জোটে প্রায় সকল আরব দেশের মুসলিম ধর্মীয় নেতারা যুক্ত রয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশর, জর্দান, সিরিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকসহ উত্তর আফ্রিকান আরব দেশগুলোতে এই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, স্পেন, ইতালি, নরওয়ে এবং তুরস্কের ইহুদি পন্ডিতদের সঙ্গে মুসলিম নেতারা দেখা করেছেন। তারা প্রাথমিকভাবে ইহুদি-মুসলিম সম্পর্ক উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন। এছাড়াও, তারা জেরুজালেম, ইসরাইল এবং পশ্চিম তীরের চার্চের খ্রিস্টান নেতাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছেন। পোপ তাদের এই কাজের প্রশংসা করেছেন বলে তারা জানান।

ইমাদ ফালোগি বলেন, ‘জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরানোর জন্য ট্রাম্পের ঘোষণা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে ক্রোধ সত্ত্বেও প্রকৃত শান্তি এবং রাজনৈতিক ও সম্প্রদায়গত অধিকারের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে ইসলামি নেতাদের একটি বড় অংশ ইসরাইলি ইহুদি পন্ডিতদের সঙ্গে কাজ করতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ধর্মীয় নেতাদের অবশ্যই একটি ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ রাজনীতিবিদদের চেয়ে ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত দ্রুত ও ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারে। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে এসব ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।’

সমতা চাই, বিচ্ছেদ নয়
ইসরাইলের জাতীয় ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পশ্চিম তীরের ‘ওফরা’ বসতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইহুদি অর্থোডক্স পন্ডিত আবি গিসার তার ইসলামি সহযোগীদের প্রতি গভীর সম্মান পোষণ করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার ইহুদি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই শিক্ষা দেই যে আমাদের একত্রে জীবন গড়ে তুলতে হবে। ইহুদি ও আরব, ইহুদি ও মুসলিমদের মধ্যে বিচ্ছেদ নয়, অবশ্যই সমতা থাকা উচিত।’

গিসার বর্তমানে ইসলাম ও প্যালেস্টাইনিদের অধিকার এবং ‘নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইে’ আন্তঃধর্মীয় সংযোগের একজন সমর্থক।

ইসলামি আইনবিদ ড. আলী সারাতি বলেন, ‘ইহুদিবাদীদের সঙ্গে কথা বলা বিপজ্জনক বিষয় কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে এটি উভয় পক্ষের জন্যই ভাল।’

২০০৭ সালে ফিলিস্তিনি সরকারে হামাস সংশ্লিষ্ট বিচারমন্ত্রী হিসেবে কাজ করা আলী সারাতি বলেন, ‘আমরা কেবল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে পারি না। ইসরাইলি ইহুদিদের সঙ্গে কথা বলতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি ইহুদি ধর্মকে সম্মান করি। কিন্তু উভয় ধর্মের মধ্যে মৌলবাদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে তা অবশ্যই ভয়ের কারণ।’

গিসার বলেন, ‘ইহুদি ও আরবদের মধ্যে অবশ্যই মৌলবাদী রয়েছে; যারা এই জোটকে পছন্দ করে না। কিন্তু ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সাধারণ জনসংখ্যার মধ্যে ইচ্ছা রয়েছে।

‘ধর্মীয় শান্তি নেটওয়ার্কের’ অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ইসরাইলে ইসলামি আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শেখ আব্দুল্লাহ নিমের দারউয়িশ চলতি বছরের শুরুতে মারা যান। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগদিয়ে গিসার তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আলোচনার প্রস্তাব দেন। তার এই প্রস্তাব নেতারা গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানান।

গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে সরানোর ঘোষণাও দেন তিনি।

সূত্র: দ্য আর্ট নিউজ পেপার

Leave a Comment

Scroll to top